ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ৮৪ বছর বয়সী পলিনা পোবি নামের এক বৃদ্ধাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা তাকে খুঁজে পান।
১৫ আগস্ট সকালে ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং ৯০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়, যেখানে পলিনা পোবি আটকা পড়েন।
প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি নড়াচড়া বা কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে কয়েক দিন ধরে খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েন। সিক্কা রিজেন্সি পুলিশের কর্মকর্তা বামবাং সুপেনো জানান, পলিনা পোবিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা রুডলফুস রিবা বলেন, পলিনা সুস্থ আছেন এবং কোনো আঘাত পাননি। তবে কয়েক দিন কিছু না খাওয়ার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, ফ্লোরেস দ্বীপে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে, তবে রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। উদ্ধার অভিযানও চলছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩৯৮ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ শনিবারের পর থেকে তিন হাজারের বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।